যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতের এই ব্যবসায়ীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন দেশটির রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, শিক্ষক ও অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিরা। জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীরাও তার বক্তব্য নাকচ করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় এক মুসলিম দম্পতি গুলি চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যার প্রেক্ষাপটে সোমবার বক্তব্যে মুসলমানদের আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দাবি করেন বেফাঁস কথা বলে এরইমধ্যে আলোচনায় আসা ট্রাম্প। ওই বক্তব্যকে তিরস্কারযোগ্য, ক্ষতিকর ও উস্কানিমূলক আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন। আমরা কখনোই আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতাদের অঙ্গীকারের কথা ভুলতে পারি না, যার অন্যতম হলো- বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না, বলেন তিনি। রিপাবলিকান পার্টির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ট্রাম্পের এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর জেব বুশ তাকে (ট্রাম্পকে) ভারসাম্যহীন অ্যাখ্যা দিয়েছেন। অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী ফ্লোরিডার সিনেটর মারকো রোবিয়ো বলেছেন, ট্রাম্পের প্রস্তাব অবশ্যই আক্রমণাত্মক। ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত এ মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইন্টারফেইথ অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক রাবাই জ্যাক মলিন। এক বিবৃতিতে ইহুদীদের এ ধর্মীয় নেতা বলেন, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিমালা উপড়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের বৈষম্য আমেরিকাকে কখনোই মহান করতে পারবে না। ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস-ঐতিহ্যের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব লর অধ্যাপক ন্যান্সি মরাওয়েটজ। তিনি বলেন, এটি একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পূর্বশর্ত হতে হবে ধর্মীয় বিশ্বাস। এর আগে ধর্মীয় কারণে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি, এমন দৃষ্টান্ত নেই। নিউ ইয়র্কের সিটি পাবলিক অ্যাডভোকেট লেটিসা জেমস এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এমন ব্যক্তি কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে চায়? তার জানা উচিত, উগ্রপন্থিরা কখনোই আমেরিকানদের সমর্থন পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে না। যুক্তরাষ্ট্র গড়ে উঠেছে বহু ভাষা-ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের মানুষের কঠোর শ্রমের মধ্য দিয়ে, পারস্পরিক সহমর্মিতা, স্বাধীনতা ও পরমতসহিষ্ণুতার কারণে। এমন অবস্থায় ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের পরিপূরক নয়।, বলেন তিনি।
kalerkantho
No comments
Post a Comment